শরীয়তপুরে বিয়ের দাবিতে স্কুলশিক্ষকের বাড়িতে প্রবাসীর স্ত্রীর অবস্থান

0
66

শরীয়তপুরের ডামুড্যা ইউনিয়নে বিয়ের দাবিতে আক্তার হোসেন নামের এক স্কুলশিক্ষকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন দুই সন্তানের জননী এক প্রবাসীর স্ত্রী। আজ রোববার সকালে উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের চরপাতালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আক্তার হোসেন ৫৫ নম্বর বাহের চর হাওলাদার কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও চরপাতালিয়া গ্রামের হাসান আলী মাস্টারের ছেলে।

ওই নারীর অভিযোগ, প্রায় আট মাস ধরে স্কুলশিক্ষক আক্তার হোসেনের সঙ্গে ওই নারীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন আক্তার। এমনকি ওই নারীকে ঢাকায় নিয়েও রেখেছেন। এ ঘটনায় বিয়ের দাবিতে আজ সকালে আক্তারের বাড়ি আসেন ওই নারী। তখন আক্তার বাড়িতে ছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বসলেও সমাধান করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আক্তার আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভোগ করেছে। এ খবর জেনে আমার স্বামী ফোন করে বলেছে ডিভোর্স পেপার পাঠিয়ে দিয়েছে। আমি এখন স্বামীর বাড়ি, বাবার বাড়ি কোথাও যেতে পারি না। তাই আক্তারের বাড়িতে এসেছি বিয়ের দাবিতে। হয় আমি আক্তারকে বিয়ে করব, নয়ত আক্তারের বাড়িতেই মরব। এই বাড়ি ছাড়া আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই আমার।’

আক্তার হোসেনের মা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। ওই মেয়ে আমার ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক আছে দাবি করে বাড়িতে এসে উঠেছে। আমি ওই মেয়েকে বুঝিয়ে বলেছিলাম যে ঢাকায় যাও, গার্মেন্টসে কাজ করে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে জীবিকা নির্বাহ কর। কিন্তু আমার কথা সে শুনল না, আমার মান-ইজ্জত সব নষ্ট করে দিলো। আমার ছেলে আক্তার হোসেন এখন কোথায় আছে, তা আমি জানি না।’

বাহেরচর হাওলাদার কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বশির আহমেদ বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আক্তার তিন দিনের ছুটি নিয়ে স্কুলে আসেননি। শিক্ষা অফিস থেকে শুনতে পেলাম আক্তার হোসেন ১৫ দিনের ছুটি নিয়েছে। যে ঘটনার কথা লোক মারফত জানতে পেরেছি, এমন কিছু ঘটে থাকলে তা অবশ্যই নিন্দনীয়। একজন শিক্ষক এ কাজ করতে পারেন না।’

ধানকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা রতন বলেন, ‘আক্তার হোসেন ও ওই নারীর বিষয়টি নিয়ে আমরা বসেছিলাম। মেয়ে ছেলেকে বিয়ে করবে কিন্তু ছেলে বিয়েতে রাজি না হওয়াতে আমরা সমাধান করতে পারিনি। এখন ওই নারী আক্তারের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান করছেন।’

ডামুড্যা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জালাল উদ্দীন বলেন, ‘অসুস্থতা দেখিয়ে আক্তার হোসেন ১৫ দিনের ছুটি নিয়েছেন। কেউ অভিযোগ দিলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর, প্রকৃত শিক্ষক এ ধরনের কাজ করতে পারেন না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here