জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্প

0
46

ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্লোবাল ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিল্স এর যৌথ উদ্যোগে জাহাজভাঙ্গা শিল্প শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও শিল্প উন্নয়নকল্পে দিন-ব্যাপী ত্রিপক্ষীয় আলোচনা সভা গতকাল নগরীর স্টেশনরোডস্থ এক অভিজাত হোটেলে সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাবেক সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ মেটাল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট শ্রম আদালতের সম্মানিত সদস্য এ এম নাজিম উদ্দিন। সঞ্চালনায় ছিলেন ইন্ডস্ট্রিঅল গ্লোবাল ইউনিয়নের বাংলাদেশ সমন্বয়কারী মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধি, সরকারী সংস্থার প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক সহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও জাহাজ-ভাঙ্গা শিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। ত্রিপক্ষীয় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ইন্ডাস্ট্রিঅল গ্লোবাল ইউনিয়নের দক্ষিণ এশিয়া অফিসের আঞ্চলিক কর্মকর্তা- প্রাভীন বি রাও, কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক বিশ্বজিৎ শর্মা, বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শফিকুর রহমান, বিএমসিজিটিডব্লিউএফ এর চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নূরুল আবছার, বিল্স ইসি কমিটির সিনিয়র কর্মকর্তা পাহাড়ী ভট্টাচার্য, সদস্য রবিউল হক শিমুল, এডভোকেট জিনাত আমীন, বেলা এর মো: আবুল মুনছুর, দৈনিক আমাদের সময় এর সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল কাইয়ুম চৌধুরী, ইন্ডাস্ট্রিঅল এর অন্তর্ভুক্ত উভয় ফেডারেশনের সংগঠকবৃন্দ যথাক্রমে- মোহাম্মাদ আলী, জীবন চন্দ্র নাথ, মো. ইদ্রিস, মো. শহীদুল ইসলাম, নবীউল হক ও এবাদুল হক প্রমূখ। ইন্ডাষ্ট্রিঅল গ্লোবাল ইউনিয়নের ত্রিপক্ষীয় আলোচনা সভা ইন্ডাস্ট্রিঅল গ্লোবাল ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিল্স এর যৌথ উদ্যোগে জাহাজভাঙ্গা শিল্প শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা পরিস্হিতি উন্নয়নকল্পে দিন-ব্যাপী ত্রিপক্ষীয় জাহাজ-ভাঙ্গা শিল্প সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

সভায় সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্প। এই শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দেশের স্বার্থে শিল্পকে টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরী। যার কারণ আমাদের দেশে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে জাহাজ ভাঙ্গার সাথে সংশ্লিষ্ট আমাদের দেশে কোন লোহার খনি নেই। শিল্প কলকারখানা ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রতিষ্ঠানগুলো চালানোর জন্য কাঁচামাল হিসেবে ৭০% যোগান দিয়ে থাকে এ জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প থেকে। আগামী দিনের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সকলের একান্ত কর্তব্য।

আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, চট্টগ্রামের জাহাজ-ভাঙ্গা শিল্প ক্রমেই সবুজায়নের আওতায় আসলেও কর্মরত শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন হয়নি। শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডসমূহে বিদ্যমান ঝুকিঁপূর্ণ কর্মপরিবেশের গুণগত ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। ইয়ার্ডসমূহে ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও প্রচলিত শ্রম আইন কার্যকর সহ জাহাজ-ভাঙ্গা শিল্পকে একটি শ্রমিক-বান্ধব, শোভন ও নিরাপদ শিল্প হিসাবে গড়ে তোলা আজও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে প্রতিয়মান হচ্ছে। আইনবিধি মেনে বর্জ্য্যমুক্ত জাহাজ আমদানী, জাহাজকে বিষাক্ত গ্যাস-কেমিকেল-ক্ষতিকর উপাদানমুক্ত করা, মানবদেহ ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ-প্রতিবেশের জন্য নেতিবাচক ও ক্ষতিকর উপাদান ও জীবাণুসমূহ চিহ্নিতকরণ পৃথকীকরণ ও অপসারণ, বৈজ্ঞানিক ও নিরাপত্তামুলক পদ্ধতিতে জাহাজ-কাটা, কর্মরত শ্রমিকেরা যাতে কোন প্রকার স্বাস্থ্য-ঝুঁকিতে না থাকে তা নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিকভাবে স্হানীয় পরিবেশ-প্রতিবেশের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া যেন না হয় সেটি নিশ্চিত করা একটি শ্রমসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ কাজ।

জাহাজ-ভাঙ্গা শিল্পকে শোভন শিল্পে রূপান্তরিত করতে ধারাবাহিকভাবে এ কার্যক্রমগুলো গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অত্যাবশ্যক। জাহাজ-ভাঙ্গা শিল্পের জন্য সম্প্রতি “বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বিল-২০১৮” সংসদে পাশ হলেও এ বিলে জাহাজভাঙ্গা শিল্পের জন্য প্রস্তাবিত বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়নি বলেও বক্তাদের কেউ কেউ মত দেন। আলোচনা সভা থেকে সকল জাহাজ ভাঙ্গা ইয়ার্ডে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ অনুসারে পরিচয়পত্র ও নিয়োগপত্র প্রদান নিশ্চিতকরণে কাজ করার উপরও তাগিদ প্রদান করা হয়। সর্বোপরি, ত্রিপক্ষীয় আলোচনা সভায় জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প শ্রমিকদের উন্নয়নে মালিকপক্ষ ও সরকারের অধিকতর কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিতকল্পে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here