পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ বেপারীর (৪৬) ভিডিও ও ছবি গত কয়েক দিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তার সঙ্গে একাধিক নারীকে দেখা যায়।
আশুতোষ বেপারী নাজিরপুর উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। ওই ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামের বাসিন্দা আশুতোষ বেপারী বলছেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার।
ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই আওয়ামী লীগ নেতা একটি কক্ষে বস্ত্রহীন অবস্থায় মদ পান করছেন। এ সময় সেখানে থাকা এক বস্ত্রহীন নারীকে নিজ হাতে মদ খাইয়ে দিচ্ছেন। অন্য একটি ছবিতে দেখা যায়, এক নারীকে সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় সময় কাটাচ্ছেন তিনি। এ ছাড়া আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, অন্তরঙ্গ অবস্থায় দুই নারীর মাঝে বসে আছেন আশুতোষ বেপারী।
এর আগেও তরুণীর সঙ্গে আশুতোষ বেপারীর অন্তরঙ্গ ছবি প্রকাশ পেয়েছিল। দুই বছর আগে আশুতোষ বেপারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, জেলার নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার এক তরুণীকে তিনি বিয়ের আশ্বাসে দুই বছর ধরে শারীরিক সম্পর্ক করেন। পরে বিয়ে না করায় তার কয়েকটি অন্তরঙ্গ ছবি ওই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, আশুতোষ বেপারী ইউনিয়ন পরিষদ ও নিজ বাড়িতে নিয়মিত মদের আসর বসান। সেখানে নারীরাও থাকেন।
আরও পড়ুন: ‘পদের লোভ দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেন’ আওয়ামী লীগ নেতা!
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোশারেফ হোসেন খান বলেন, ‘আশুতোষ বেপারীর মদ ও নারী কেলেঙ্কারি নতুন নয়। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে বসে মদ ও নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটাত। এ নিয়ে তার বাবার সঙ্গে ঝামেলা ছিল। তিনি আমার কমিটির সাধারণ সম্পাদক। বিষয়টি নিয়ে লজ্জা লাগছে। এ বিষয়ে নিউজ করার দরকার নাই।’
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণকান্ত মজুমদার বলেন, ‘আওয়ামী লীগের একজন নেতা এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় নিজেকে লজ্জিত মনে হচ্ছে। এমন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি।

