বিশাল রান তাড়ায় ৩ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা বাংলাদেশ

0
53

স্পোর্টস ডেস্ক

৩৩২ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে শুরুতেই ৩ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা বাংলাদেশ। অধিনায়ক ও ওপেনার লিটন দাসের পর ফিরে গেছেন ওয়ান ডাউন ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্তও। এরপর ফেরেন তামিমের অনুপস্থিতিতে দলে সুযোগ পাওয়া বাঁহাতি ওপেনার নাইম শেখ।

জীবন পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি লিটন। দ্বিতীয় ওভারেই ফিরে যেতে পারতেন তিনি। মুজিব-উর-রহমানের বলে আফগানদের এলবিডাব্লিউয়ের আবেদনের সাড়াও দিয়েছিলেন অনফিল্ড আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে এ যাত্রায় বেঁচে যান লিটন।

জীবন পেয়েও নিজের ইনিংস দীর্ঘায়িত করতে পারলেন না এই ব্যাটার। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে পেসার ফজলহক ফারকীর বলে সজোরে ব্যাট চালালে টপ এজ হয়ে ক্যাচ উঠে যায়। তালুবন্দী করতে কোনো ভুল করেননি মোহাম্মদ নবী।

তার পরের ওভারেই ফেরেন ওয়ান ডাউনে ব্যাট করতে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। মুজিবের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন নাজমুল। নবম ওভারের প্রথম বলে ফারকীর বলে বোল্ড হন নাইম শেখও। ২১ বলে মাত্র ৯ রান করেন তিনি।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ৩ উইকেট হারিয়ে ২৮। ১ রান নিয়ে উইকেটে আছেন তাওহীদ হৃদয়। আরেক পাশে ২ রান নিয়ে অপরাজিত সাকিব আল হাসান।

এর আগে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয়টিতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দুই আফগান ওপেনারের কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছে বাংলাদেশ দল। ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৩১ রান তোলার পথে উদ্বোধনী জুটিতে রেকর্ড ২৫৬ রান তোলে আফগানরা। সিরিজে সমতা আনতে টস জিতে আফগানিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠান বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। তবে তার সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করে শুরু থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের ওপর চড়াও হন আফগানিস্তানের এই দুই ওপেনার। আগ্রাসী গতিতে রান তুলে পার করেন ২৫০ রানের (২১৮ বলে) গণ্ডি।

ওপেনিং জুটি তো বটেই, কোনো উইকেটেই এর আগে এত বেশি রান তুলতে পারেনি আফগানিস্তান। আগের সর্বোচ্চ ছিল ২০১০ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। ২১৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছিলেন মোহাম্মদ শাহজাদ এবং করিম সাদিক। আর ওপেনিংয়ে ২০১২ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জাভেদ আহমাদি ও করিম সাদিক এর আগের সর্বোচ্চ ১৪১ রান তুলেছিলেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে চার বছর পর কোনো দলের ওপেনাররা দেড়শ ছাড়ানো জুটি গড়লেন। সর্বশেষ বিশ্বকাপে এজবাস্টনে ১৮০ রান তুলেছিলেন ভারতের লোকেশ রাহুল ও রোহিত শর্মা। দেশের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে সবচেয়ে বড় রানের জুটিও এটি।

২৫৬ রানের মাথায় সাকিব আল হাসানের বলে গুরবাজের পতনের পর অবশ্য ম্যাচের লাগাম টেনে ধরে বাংলাদেশ। ২৫৯ রানের মাথায় মোস্তাফিজুর রহমান রহমত শাহকে ফেরানোর পর ২৬৬ রানে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ফেরেন হাশমতউল্লাহ শাহিদিও। ২৮৬ রানের মাথায় নাজিবুল্লাহ জাদরানকেও ফেরান মিরাজ। আর সেঞ্চুরির পরপরই ২৯৯ রানের মাথায় ইব্রাহিমকে ফেরান মোস্তাফিজ। ৩০৬ রানের মাথায় সাকিবের বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন রশিদ খান। ৩১৮ রানের মাথায় আজমাতুল্লাহ ওমারজাইকে ফেরান মোস্তাফিজ। আর শেষ ওভারে অষ্টম ব্যাটার হিসেবে হাসান মাহমুদের শিকার হন মুজিব উর রহমান। শেষ ওভারের শেষ বলে ফারুকিকেও ফেরান হাসান।

বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার সাকিব আল হাসান। ১০ ওভারে ৫০ রানের বিনিময়ে এই বাহাতি স্পিনারের শিকার ২ উইকেট। ১০ ওভারে ৬০ রান দিয়ে সাকিবের সমান ২ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজও। ২ উইকেট নিলেও ৯ ওভারে ৬০ রান নিয়েছেন মিরাজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here