দিল্লিকে ডুবিয়ে ৪৫ বছরের রেকর্ড ভাঙল যমুনা

অনলাইন ডেস্ক

ভারতের উত্তরাঞ্চলে চলা অতিবৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় দেশটির রাজধানীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ। যমুনার পানি ২০৭ দশমিক ৭১ মিটার বেড়েছে। সর্বশেষ ৪৫ বছর আগে যমুনা নদীর পানি ২০৭ দশমিক ৪৯ মিটার বেড়েছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী- যমুনার পানির উচ্চতা বাড়ায় নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘর ও অনেক বাজার প্লাবিত হয়েছে। এতে করে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সেখানকার বাসিন্দাদের। অসহায়ের মতো পানির উচ্চতা বাড়তে দেখছেন তারা।
মূলত যমুনার পানি বাড়ছে হরিয়ানার হাতনিকুন্ড ব্যারেজ দিয়ে পানি ছাড়ার কারণে। এই ব্যারেজ দিয়ে নতুন করে পানি না ছাড়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করেছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরিবিন্দ কেজরিওয়াল। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দেওয়া এক চিঠিতে কেজরিওয়াল অনুরোধ করে লেখেন, ‘হরিয়ানার হাতনিকুন্ড ব্যারেজ থেকে সীমিত পরিমাণে পানি ছাড়া উচিত, যাতে যমুনার স্তর আর না বাড়ে।’ এদিকে, যমুনার পানিতে প্লাবিত অঞ্চলে জনসমাগম না করার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির পুলিশ।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে পুরোনো রেল ব্রিজের কাছে যমুনা নদীর পানি ২০৭ দশমিক ৩৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। সর্বশেষ ২০১৩ সালে ভারতের রাজধানীতে বন্যা হয়েছিল ও সেসময় পানি ২০৭ দশমিক ৩২ মিটার উচ্চতায় যমুনা প্রবাহিত হয়েছিল। আর ১৯৭৮ সালে ২০৭ দশমিক ৪৯ মিটার উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হয়েছিল।
যমুনার পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশন। তাদের অনুমান, দিনের শেষ ভাগে পানি ২০৭ দশমিক ৫৭ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হবে। পানি বাড়ায় পুরোনো দিল্লিতে ব্যাপক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, গত তিনদিন ধরেই যমুনার পানি বাড়ছিল। স্থানীয় প্রশাসন বন্যাপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী লোকজনকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। পুরোনো দিল্লির রেলওয়ে ব্রিজ দিয়ে যান ও ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, দিল্লি ও এর আশেপাশের অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত এবং উঁচু অঞ্চলে অবিরাম বৃষ্টিপাতে পানির স্তর বাড়ছে। হরিয়ানার একটি ব্যারেজ থেকে ছেড়ে দেওয়া পানির জন্যও যমুনায় পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর তীরের লোকজনদের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য কাজ করা হচ্ছে।  উদ্ধারকাজের জন্য নৌকা মোতায়েন করা হয়েছে।

Similar Articles

Advertismentspot_img

Most Popular