পূজার নিরাপত্তায় শঙ্কার কিছু দেখছেন না ডিএমপি কমিশনার

0
47

শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে এবার নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা না দেখলেও ‘যে কোনো পরিস্থিতি’ মোকাবিলার প্রস্তুতি রাখার কথা বলেছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান।

তিনি বলেন, মহালয়া থেকে আজকে পর্যন্ত এক ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। আগামীকাল থেকে পাঁচ দিনব্যাপী পূজার মূল কার্যক্রম শুরু হবে। মহাষষ্ঠী থেকে বিসর্জন পর্যন্ত পুরো সময়টাই পুলিশ, আনসারসহ যে স্বেচ্ছাসেবক দল রয়েছে, তাদের সহযোগিতায় নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

গত শনিবার মহালয়ার দিন এবারের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শুক্রবার ষষ্ঠী তিথিতে দেবির বোধনে শুরু হবে দুর্গোৎসবের মূল আচার।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে নিরাপত্তা প্রস্তুতি ঘুরে দেখেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

কমিশনার বলেন, ঢাকা মহানগর এলাকায় এবার ২৪৮টি পূজামণ্ডপ হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ভোটের বছর এলেই দুর্গাপূজার সময় সাম্প্রদায়িক হামলা-সহিংসতার ঘটনা বাড়ে। এবার তেমন কোনো শঙ্কা রয়েছে কিনা?

এর জবাবে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, পূজা উপলক্ষে ঢাকা মহানগর এলাকায় কোনো সুনির্দিষ্ট শঙ্কা নেই। তবে সব ধরনের শঙ্কা মাথায় রেখে আমাদের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। সব ধরনের শঙ্কা মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ২৪৮টি পূজা মণ্ডপের মধ্যে সাতটি ছোট, বাকি সব মণ্ডপেই নিরপত্তার বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং কম গুরুত্বপূর্ণ- এই দুই ভাগে ভাগ করে নিরাপত্তা প্রস্তুতি সাজানো হয়েছে।

হাবিবুর রহমান বলেন, যেহেতু এটি (ঢাকেশ্বরী) প্রধান পূজামণ্ডপ, প্রধানমন্ত্রী এখানে এসে থাকেন এবং জাতীয় পূজামণ্ডপ এটি, এখানে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখানে প্রত্যেকটি জায়গায় আর্চওয়ে থাকবে এবং বিশেষ টিম থাকবে। আর প্রত্যেকটি পূজা মণ্ডপেই সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সাইবার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যে পূজা কমিটিগুলো রয়েছে, সবাইকে এ বিষয়ে অনুরোধ করা হয়েছে। এ ধরনের কোনো কিছু পেলে যেন আমাদের জানায়। আমাদের সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম চব্বিশ ঘণ্টা প্রতিরোধ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

আগামী ২৪ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসবের। সেদিন রাত ৮টার মধ্যে বিসর্জনের কাজ শেষ করতে পূজা কমিটিগুলোকে অনুরোধ করেছে পুলিশ।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমাদের সমন্বয় সভায় সবাইকেই বলেছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিসর্জন যেন সম্পন্ন করতে পারি এবং কোনো ধরনের সমস্যা ব্যাতিরেকে সবাই সচেষ্টা থাকবে।

ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনের সময় ঢাকা মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মনীন্দ্র কুমার নাথ, সাধারণ সম্পাদক রমেন মণ্ডল এবং ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here