স্বৈর-সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনে লড়াকু সৈনিক ছিলেন সাংবাদিক হেলাল

0
89

প্রবীণ সাংবাদিক ও মুক্ত বুদ্ধি চর্চার সৈনিক হেলাল উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে সিনিয়র জার্নালিস্টস ফোরাম এর উদ্যোগে ৭ ই অক্টোবর (২০২৩) শনিবার অপরাহ্নে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সিনিয়র জার্নালিস্ট ফোরাম আহ্বায়ক, প্রবীণ সাংবাদিক নেতা বিশ্ব প্রেস কাউন্সিল নির্বাহী পরিষদ ও বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সাবেক সদস্য মইনুদ্দীন কাদেরী শওকতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এবং ফোরাম এর সদস্য সচিব, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সঞ্চালনায় প্রারম্ভিক বক্তব্য পেশ করেন সভার সভাপতি এবং বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা, সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন প্রাক্তন সভাপতি এম. নাসিরুল হক, দৈনিক নয়াবাংলা সম্পাদক জিয়াউদ্দিন মো. এনায়েত উল্লাহ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক কো অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন কুমার মল্লিক, প্রবীণ সাংবাদিক মাখন লাল সরকার, প্রদীপ দেওয়ানজী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব নির্মল চন্দ্র দাশ, বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি এস.এম. জামাল উদ্দিন, আলোকিত সন্দ্বীপ পত্রিকার সম্পাদক অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক লাইব্রেরি সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্যে প্রবীণ সাংবাদিক নেতা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত বলেন, ১৯৮২ সালের ২৪ শে মার্চ থেকে ১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বৈরাচার ও সামরিক শাসন বিরোধী প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন লড়াকু সৈনিক। সেই সময়ে আন্দোলনরত ১৫ দল, ৭ দল, ৫ দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠনের সাথে সমন্বয় রেখে ভূমিকা রাখতেন এবং পেশাজীবীদের একটি গ্রুপের অন্যতম নেতা ছিলেন হেলাল। দৈনিক আজাদীর রিপোর্টারের দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখা নিবন্ধ-অভিমতে সাংবাদিক হেলালের আধিপত্যবাদ বিরোধী অবস্থান স্পষ্ট হয়। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কারণে অনেকের সাথে মতের ভিন্নতা থাকলেও ব্যক্তি সাংবাদিক হেলালের সততা ছিল সর্বজনবিদিত।
সভাপতির বক্তব্যে কাদেরী শওকত চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উন্নয়নে সাংবাদিক হেলালের ভূমিকা প্রসঙ্গে বলেন, ১৯৯০ সালের পর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনের কাজ যখন আর্থিক সংকটে পড়ে বন্ধ হয়ে যায় এবং একটি ভাড়া করা ঘরে সংকীর্ণ পরিসরে ক্লাবের তৎপরতা চালাতে হয়, তখন সাংবাদিক হেলাল নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রেসক্লাবকে ঘুরিয়ে দাঁড় করাতে নিরলস ভূমিকা রাখেন। তৎসময়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তার সরকারের আর্থিক আনুকুল্য ও সমর্থন লাভে সক্ষম হন। এরপর নির্মাণাধীন প্রেসক্লাব ভবনের কাজ সম্পন্ন করতে চট্টগ্রামের সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সমর্থন ও সহযোগিতা আদায় করেন। যে সব কারণে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব আজ একটি স্বয়ং সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান। প্রেসক্লাবের উন্নয়নের ইতিহাসে সাংবাদিক হেলাল একটি গোলাপ। ভুলের কারণে এই গোলাপকে অনেকেই ছিঁড়ে ফেলতে চেয়েছে, কচ্লে দিতে চেয়েছে। ইতিহাসের অনেক সত্য ঘটনা স্মৃতির গর্ভে হারিয়ে যায়। প্রেসক্লাবের ইতিহাসে হেলালের অবদান ভুলে যাওয়া ঠিক হবে না। স্মরণসভার সভাপতি কাদেরী শওকত তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বলেন, সাংবাদিক হেলাল কয়েক বছর আগে থেকেই পরিবার ও সন্তানের প্রভাবে পুরোপুরি নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে তাকওয়া ও পরহেজগারী এখতিয়ার করেছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here