ডেঙ্গু পরীক্ষায় বাড়তি টাকা আদায়ের অভিযোগ শেভরনের বিরুদ্ধে

0
46

 ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে নামেমাত্র মূল্যে ডেঙ্গু নির্ণয় করতে নির্দেশনা দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও রোগটি নির্ণয়ে ফি নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু সে নির্দেশনা মানছে না চট্টগ্রামের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরী (প্রাইভেট) লিমিটেড। নিচ্ছে অতিরিক্ত ফি। অনেকটা ‘বুড়ো আঙুল’ দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করলেও শেভরণ দোষ ঢাকতে দায় চাপাচ্ছে সফটওয়্যারওপর।

তবে দায় চাপিয়েও শেষ নিস্তার পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। অতিরিক্ত টাকা আদায় করায় শেভরণ কর্তৃপক্ষের সেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। একইসঙ্গে তিন দিনের মধ্যে অতিরিক্ত ফি আদায়ের কারণসহ ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৬ জুলাই) রাতে বন্দর এলাকার মো. ইমতিয়াজ নামের এক রোগী ডেঙ্গু এনএস–ওয়ান, সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট), এবং আইসিটি ফর ডেঙ্গু (আইজিজি ও আইজিএম) সহ কয়েকটি পরীক্ষা করায় শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরী (প্রাইভেট) লিমিটেডে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ডেঙ্গু এনএস–ওয়ান টেস্টের ফি হিসেবে রোগীর কাছ থেকে আদায় করেছে ১৬০০ টাকা। যা সরকার নির্ধারিত ফি’র তুলনায় ১৩০০ টাকা বেশি। আবার আইসিটি ফর ডেঙ্গু (আইজিজি ও আইজিএম) টেস্ট ফি নিয়েছে ১২০০ টাকা করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী রোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার (১৭ জুলাই) শেভরণ কর্তৃপক্ষকে তাদের সেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখাসহ তিনদিনের ভেতর ল্যাব পরিচালনার লাইসেন্সসহ যাবতীয় প্রমাণপত্র ও অতিরিক্ত ফি আদায়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে চিঠি দেয় সিভিল সার্জন।

কিন্তু শেভরণ কর্তৃপক্ষের দাবি— সফটওয়্যারভুলে রোগী থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে এ টাকা আদায় করা হয়। সিভিল সার্জন কার্যালয়ে অভিযোগের পরপরই রোগীকে আদায়কৃত বাড়তি টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার পুলক পাড়িয়াল।

এ বিষয়ে শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরী (প্রাইভেট) লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার পুলক পাড়িয়াল  বলেন, ‘রোগীদের কাছ থেকে আমরা সরকার নির্ধারিত ফি’ই রাখি। আমাদের সফটওয়্যারভুলের কারণে একজন রোগীর কাছ থেকে বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে। আমরা জানার পরপরই সকালে ওই রোগীকে বাড়তি টাকাটা ফেরত দিয়ে দিয়েছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না আমরা কার্যক্রম সেভাবে বন্ধ করিনি। সকালে চিঠিটা পেয়েছি। আমাদের যাবতীয় সব কাগজপত্রই আছে। সেসব নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে যাবো।’

জানতে চাইলে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়া বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি ল্যাবে ডেঙ্গু টেস্ট ফি তিনশ টাকার বেশি নেয়ার সুযোগ নেই। যারা নির্দেশনা মানছে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বা হচ্ছে। অতিরিক্ত ফি আদায় করায় শেভরণ নামের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে কাগজপত্রসহ ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here